খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৮ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশ থেকে আশঙ্কাজনক ভাবে কমছে কাঁচাপাট রপ্তানি, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

এন আই রকি |
১২:৪৫ এ.এম | ১৪ জুন ২০২১

বাংলাদেশ থেকে আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে কাঁচাপাট রপ্তানি। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও কমছে। অনেকেই ব্যবসায় থেকে সরে যাচ্ছেন। করোনার প্রভাব, বিদেশীদের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচাপাট সরবরাহ না করা এবং দেশেই কারখানার চাহিদা মেটানোর কারণে কাঁচাপাট রপ্তানি কমে যাচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। 
বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের (বিজেএ) তথ্য মতে, ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের (এপ্রিল) মধ্যে দেশের কাঁচাপাট রপ্তানিতে ব্যাপক পতন হয়েছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের লোন সমন্বয় করতে না পারায় অনেকে জেলে, আবার কেউবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
বিজেএ’র সূত্র জানায়, এমনও অর্থবছর ছিল যেসময় বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ বেলের বেশি পাট রপ্তানি করত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নানা প্রতিক‚লতার কারণে পাট রপ্তানিতে ধ্বস হওয়ায় আশঙ্কাজনক ভাবে কমেছে পাট রপ্তানি। সর্বশেষ অর্থবছরে মাত্র ৫ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করেছে। 
এদিকে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে পাট রপ্তানি হলে সেটি কমে এসেছে মাত্র ১৩টি দেশে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এখনও বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ পাট আমদানি করছে। 
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট গত ২৩ মে চিঠি প্রেরণ করেন বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ)। চিঠিতে উলে­খ করা হয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল মাস অবধি ৪৬জন ব্যবসায়ী পাট রপ্তানি করে। যার পরিমাণ ৫ লাখ ২ হাজার ৭২১ বেল। এ সকল কাঁচাপাট চট্টগাম, বেনাপোল, মোংলা ও বাংলা বান্দা বন্দর থেকে রপ্তানি হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ভিয়েতনাম, আইভরি কোষ্ট, এলসারভাদর, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইউকে, তিউনিশিয়া, কোরিয়ায় মোট ১৩টি দেশে পাট রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩২ বেল এবং পাকিস্তানে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৬ বেল। 
বিজেএ’র খুলনার অফিস সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশ থেকে পাট রপ্তানি হয়েছিল ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৪ বেল। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ৩০-৩৫টি দেশ কাঁচাপাট নিতো এবং ৭০/৮০ জন রপ্তানিকারক সেই চাহিদা পূরণ করতেন। 
খুলনার পিনিতাহ ট্রেড ইন্টারন্যাল কোম্পানির স্বত্বাধিকার ও প্রগতি জুট সাপ্লাইয়ের সিইও এস এম সাইফুল ইসলাম পিয়াস বলেন, করোনার প্রভাবে কাঁচাপাট রপ্তানি কমেছে। এছাড়া দেশে কাঁচাপাট উৎপাদনও কমে যাওয়ায় পাট রপ্তানি হ্রাসের প্রধান কারণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে যে পাট রপ্তানি করা হয়েছে তাতে রপ্তানিকারকরা বেশি লাভ করতে পারেনি। তাছাড়া পাটের দামও ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা মণ প্রতি বেশি হওয়ায় পাট কিনতে অনীহা ছিল ব্যবসায়ীদের। 
তিনি আরও বলেন, দেশেই অনেক কারখানা তৈরি হয়েছে। যার ফলে উৎপাদিত কাঁচাপাটের বড় একটি অংশ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মেটানোর কারণেও পাট রপ্তানি কমেছে। খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচাপাট ব্যবসায়ীরা আশংকার মধ্যে আছে। 
বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের (বিজেএ) সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী জানান, করোনায় কাঁচাপাট ব্যবসায়ীদের খুবই খারাপ অবস্থা। সরকার থেকে কোন প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি। দিনে দিনে দেশ থেকে কাঁচাপাট রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশায় পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন করে সমন্বয় করতে পারেনি এটা সঠিক তবে তাদের তালিকা আমার কাছে নেই। রপ্তানি কমে যাওয়ায় আয়ও কমছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

 

প্রিন্ট